ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ এর নতুন নিয়মে আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার পথ আবারও সহজ হয়েছে। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন আবার চালু করা হয়েছে।
ভারতের
নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এই ঘোষণা দেন।
শুরুতে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা এই
পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের
মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
তবে আগের মতো শুধু অনলাইনে আবেদন করে ভিসা সেন্টারে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিলেই হবে না। নতুন নিয়মে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন ও কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে আর্টকেলটি পড়ুন।
আমাদের আজকের আলোচনায় বুঝতে পারবেন, কি কি পন্থা অবলম্বন করলে খুব সহজে ভারতের টুরিস্ট ভিসা পাবেন।
সূচিপত্রঃ এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনি যা যা জানতে পারবেন
- ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬: কী পরিবর্তন হয়েছে?
- ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন কোথায় করবেন?
- অনলাইনে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন কীভাবে করবেন?
- ২০২৬ সালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নতুন নিয়ম
- ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
- ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার ফি কত?
- রাজশাহী থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা করবেন যেভাবে
- ভিসা আবেদন করার আগে যেসব ভুল করবেন না
- পাসপোর্ট ফেরত পাবেন কীভাবে?
- ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬: কী পরিবর্তন হয়েছে?
২০২৬ সালে ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করলেও আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে প্রথমে অনলাইনে ভিসা আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্টের ভিত্তিতে ওয়েবফাইল তৈরি করে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট টাইম স্লট। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত সব IVAC-এ সময় নির্ধারণের জন্য নতুন সিস্টেম চালু হয়েছে। এখন আবেদনকারীকে নিজের পছন্দের সময় ম্যানুয়ালি নির্বাচন করতে হবে না; সিস্টেম দৈনিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে সময় বরাদ্দ করবে।
অর্থাৎ, ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু ফর্ম পূরণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। আবেদনকারীর তথ্য, পাসপোর্ট, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইট ইন্ডিয়ান ভিসা সাইটে জমা করতে হবে।
অনেকেই মনে করেন এই ফাইলটি জমা নেওয়ার কারণ হচ্ছে, তারা ফাইলটি যাচাই-বাছাই করেন এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এবং এরপরে যখন স্লট ছাড়া হয় তখন আপনার ফাইলটির গুরুত্ব ও যথার্থতা অনুধাবন করে তখন আপনাকে স্লট প্রদান করা হয়। নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের পর আপনাকে একটি ডেট প্রদান করা হবে উক্ত ডেটে গিয়ে আপনি আপনার সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিবেন।
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন কোথায় করবেন?
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন পাঁচটি IVAC-এর মাধ্যমে করা হচ্ছে। এগুলো হলো ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা। ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও শহরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়েছে। আবেদনকারীর বসবাসের বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট IVAC-এ আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, রাজশাহীর নির্দেশনায় রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দাদের রাজশাহী IVAC-এ আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবেদনকারীদের নির্ধারিত কেন্দ্র ব্যবহার করতে হয়। তাই ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র ২০২৬ সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো। ভুল IVAC নির্বাচন করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অনলাইনে আবেদনের পর স্লট সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হলে আপনি আপনার ফাইলটি তৈরি করুন। যথাযথ তৈরি আপনার ফাইল এর গুরুত্ব বৃদ্ধি করে। এরপরে ফাইলটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সাজিয়ে আপনি ফাইলটি ইন্ডিয়ান হাইকমিশন অফিসে জমা দিয়ে আসুন। এখানে সাধারণত হাতে হাতে ফাইল জমা নেওয়া হয়।
সাধারণত ফাইল ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে টাকা জমা দেওয়ার ডেট প্রদান
করা হয়। কোন কোন সময় এই সময় ১৫ থেকে ২০ দিনও হতে পারে। আর যদি আপনার ফাইলটি
সঠিক প্রক্রিয়ায় তৈরি করা না হয়ে থাকে তাহলে আপনি কখনোই ডেট পাবেন না।
সেক্ষেত্রে পুনরাই আপনাকে ফাইলটি তৈরি করে ইন্ডিয়ান হাই কমিশন অফিসে জমা দিতে
হবে।
অনলাইনে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন কীভাবে করবেন?
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ভারতীয় ভিসার অফিসিয়াল অনলাইন পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হয়। নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা, পেশা, ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ বিভিন্ন তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে।
আবেদনের সময় ভুল তথ্য দেওয়া উচিত নয়। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক ঘরগুলো সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে এবং ভুল তথ্য ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর Web File Number সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন।
অনলাইন ফর্ম পূরণ শেষ হলে আবেদনপত্রের প্রয়োজনীয় কপি সংরক্ষণ করতে হবে। ভারতীয় ভিসা পোর্টালেও নিবন্ধিত আবেদন পুনরায় প্রিন্ট করার সুবিধা রয়েছে।
২০২৬ সালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নতুন নিয়ম
ভারতের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম। ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে সব IVAC-এ time-slot based visa application submission system চালু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীকে আর নিজের পছন্দের সময় ম্যানুয়ালি নির্বাচন করতে হবে না। IVAC-এর দৈনিক নির্ধারিত আবেদন গ্রহণের সক্ষমতা অনুযায়ী সিস্টেম ধারাবাহিকভাবে আবেদনকারীদের সময় বরাদ্দ করবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট IVAC-এ উপস্থিত হতে হবে। সময়ের আগে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখা ভালো। কারণ আবেদন জমা দেওয়ার সময় মূল পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যাচাই করা হতে পারে। ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার সময় আপনাকে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। অর্থাৎ যে সমস্ত ডকুমেন্টস আপনি জমা দিবেন সে সমস্ত ডকুমেন্টস এর একাধিক কপি সাথে রাখবেন।
যাতে করে কোন রকমের চেয়ে সমস্যা থাকলে সাথে সাথেই আপনি সেটা রিপ্লেসমেন্ট দিতে পার। আরেকটি বিষয় এ সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে আপনার সম্প্রতি তোলা ছবি। ছবির ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে ছবিটি সরাসরি আপনার ফেসের হতে হবে এবং ছবিতে আপনার দুই কান স্পষ্ট দেখা যাবে এবং আপনার চোখে কোন চশমা থাকবে না।
এ সময় আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে। সুতরাং আপনি খেয়াল রাখবেন সেদিন যেন
আপনার হাত পরিষ্কার থাকে। অনেক সময় আমরা কাজ বেশি করার কারণে আঙ্গুলের ছাপ পেতে
সমস্যা তৈরি হ। যেটা ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে সুতরাং আপনি
খেয়াল রাখবেন আপনার হাত যেন পরিষ্কার থাকে। যদি আপনার হাত বেশি ঘামে তাহলে
অবশ্যই সাথে টিস্যু বা রুমাল রাখবেন যাতে করে আপনি হাত মুছে আবার আগুনে ছাপ দিতে
পারেন।
ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা উচিত। ভারতীয় হাইকমিশনের প্রকাশিত ট্যুরিস্ট ভিসা ডকুমেন্ট তালিকা অনুযায়ী মূল পাসপোর্ট, পুরোনো পাসপোর্ট, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, ঠিকানার প্রমাণ, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং পেশাগত প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
বৈধ পাসপোর্ট
আবেদনের সময় মূল পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুইটি খালি পৃষ্ঠা থাকা প্রয়োজন। পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেগুলোও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাসপোর্টের তথ্য অনলাইন আবেদনপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর বা অন্য কোনো তথ্য ভুল হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।
সাম্প্রতিক রঙিন ছবি
আবেদনকারীর সাম্প্রতিক রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন। ভারতীয় হাইকমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনায় ২×২ ইঞ্চি ছবি এবং পূর্ণ মুখমণ্ডল দৃশ্যমান থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি ব্যবহার করা উচিত। ছবি ওঠার সময় চোখে চশমা রাখা যাবে না। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছবি যেন পুরোনো, অস্পষ্ট বা অতিরিক্ত সম্পাদিত না হয়। অনলাইন আবেদনে ছবি আপলোড করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রিন্টেড ছবিও সঙ্গে রাখতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন
জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনের কপি প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনপত্রে দেওয়া জন্মতারিখের সঙ্গে এই ডকুমেন্টের তথ্যের মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে স্মার্ট আইডি কার্ড থাকলে ভালো হয়। না থাকলে আপনার আগের যে এনালগ আইডি কার্ড আছে সেটাতেই কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে।
ঠিকানার প্রমাণ
আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ল্যান্ডলাইন টেলিফোন বিলের মতো ডকুমেন্ট চাওয়া হতে পারে। ভারতীয় হাইকমিশনের প্রকাশিত তালিকায় এসব বিলের উল্লেখ রয়েছে। যারা ভাড়া বাসায় থাকেন, তাদের জন্য আপনি যে বাসায় থাকেন সেই মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে উক্ত বাড়ির বিদ্যুৎ বিল অথবা পানির বিল অথবা গ্যাসের বিল ইত্যাদি সাবমিট করতে পারেন।
পেশার প্রমাণ
চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার সনদ বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে সরকারি আদেশের কপি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার সার্টিফিকেটের কথা নির্দেশনায় উল্লেখ আছে। সরকারি এবং বেসরকারি সরকারি উভয় কর্মচারীদের জন্য প্রেশার প্রমাণপত্র হিসেবে উনি যে অফিসে কর্মরত সেই অফিসের প্রধান কর্মকর্তার একটি ছাড়পত্র দরকার হবে। ছাড়পত্র তে উল্লেখ থাকবে তিনি কত তারিখ থেকে কত তারিখে ছুটিতে থাকবেন। সেই বিষয়টি নষ্ট করে উল্লেখ থাকতে হ।
ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সরকারি নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে। মুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানের ছাড়পত্র বা প্রত্যয়ন পত্র দরকার হতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক অবসর সংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে ভ্রমণের জন্য আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় হাইকমিশনের প্রকাশিত ডকুমেন্ট তালিকায় পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিদেশি মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট/ট্রাভেল কার্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের লেনদেনের একটি স্টেটমেন্ট দরকার হবে। স্টেটমেন্ট সেই ধরনের অ্যাকাউন্টের হবে যেখানে আপনি বিগত ছয় মাস লেনদেন করেছেন।
প্রকাশিত নির্দেশনায় প্রতি আবেদনকারীর জন্য ১৫০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের বিকল্পও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট IVAC বা ভারতীয় মিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া নিরাপদ। বর্তমানে আপনি বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে এন্ডোরসের মাধ্যমে ডলার নিতে পারবেন।
ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার ফি কত?
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করা দরকার। ভারতীয় ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা ফি এবং IVAC-এর সার্ভিস/প্রসেসিং চার্জ এক বিষয় নয়। বাংলাদেশে আবেদন করার সময় প্রযোজ্য প্রসেসিং বা সার্ভিস চার্জ থাকতে পারে। বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ভারত সরকারের কোনো ভিসা ফি বা অ্যাম্বাসি ফি লাগে না, এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে আবেদন কেন্দ্র বা IVAC-এর সার্ভিস ও প্রসেসিং ফি বাবদ ১৫০০ টাকা (সব করসহ) ক্যাশ কাউন্টারে জমা দিতে হয়।
তাই শুধু ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা ফ্রি শুনে কোনো টাকা লাগবে না এমন ধারণা করা ঠিক নয়। আবেদন করার সময় IVAC-এর সর্বশেষ নির্ধারিত চার্জ এবং পেমেন্ট পদ্ধতি যাচাই করা উচিত। এছাড়া বিভিন্ন দেশের জন্য ভারতের ভিসা ফি আলাদা হতে পারে। ভারতীয় মিশনগুলোর প্রকাশিত ফি-তালিকাও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট বর্তমান চার্জ সংশ্লিষ্ট IVAC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
রাজশাহী থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা করবেন যেভাবে
রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দাদের জন্য রাজশাহী IVAC একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, রাজশাহীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের আবেদনকারীদের রাজশাহী IVAC-এ আবেদন জমা দিতে হয়। রাজশাহী থেকে আবেদন করার ক্ষেত্রে আগে অনলাইনে ভারতীয় ভিসা ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা সিস্টেমে বরাদ্দ করা সময় অনুযায়ী IVAC-এ যেতে হবে।
রাজশাহী থেকে ভারতের স্থলপথে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে ভিসা পাওয়ার পর ভ্রমণ রুটও আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া ভালো। যেমন রাজশাহী থেকে গেদে হয়ে কলকাতা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ট্রেন, বাস ও সীমান্ত পারাপারের সময়সূচি আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত।
ভিসা আবেদন করার আগে যেসব ভুল করবেন না
- ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন করার সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো অনলাইন ফর্মে ভুল তথ্য দেওয়া। পাসপোর্টের নামের বানান, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা ও পেশার তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে সাবমিট করতে হবে।
- দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অসম্পূর্ণ কাগজপত্র। মূল পাসপোর্ট, পুরোনো পাসপোর্ট, ছবি, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং পেশাগত কাগজপত্র প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত রাখতে হবে।
- তৃতীয়ত, দালালের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও IVAC-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। অ্যাপয়েন্টমেন্টের নামে অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে।
পাসপোর্ট ফেরত পাবেন কীভাবে?
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পাসপোর্ট সংগ্রহের বিষয়ে আবেদনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানো হতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট IVAC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় প্রয়োজনীয় রসিদ বা ডেলিভারি সংক্রান্ত কাগজ সঙ্গে রাখা উচিত। অন্য কেউ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট IVAC-এর নিয়ম আগে জেনে নেওয়া ভালো।
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ এর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তথ্য, সঠিক ডকুমেন্ট এবং সঠিক সময়ে আবেদন করা। প্রায় দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হতে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে আবেদন না করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। বিশেষ করে অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় প্রতিটি তথ্য পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমে নতুন পরিবর্তন আসায় পুরোনো নিয়ম অনুসরণ না করে সর্বশেষ IVAC নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। সবশেষে মনে রাখতে হবে, ভিসার আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীর তথ্য, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।
শেষকথা
ভারতে ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ আবার চালু হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভারত ভ্রমণের সুযোগ নতুন করে তৈরি হয়েছে। তবে নতুন নিয়মে আবেদন করতে হলে অনলাইন ফর্ম, ওয়েবফাইল, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এবং নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষ করে ১ জুলাই থেকে স্বয়ংক্রিয় সময় বরাদ্দের নিয়ম চালু হওয়ায় আগের মতো নিজের পছন্দের সময় নির্বাচন করার সুযোগ নেই।
তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর অযথা নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় মিশন ও IVAC-এর অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুসরণ করুন। তাহলেই ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬ আবেদনের প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও ঝামেলামুক্ত হতে পারে।
FAQ: ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৬
২০২৬ সালে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হয়েছে কি?
হ্যাঁ। ২৮ জুন ২০২৬ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন পুনরায় চালু হয়েছে।
কোথা থেকে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা যাবে?
বর্তমানে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার IVAC-এর মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
২০২৬ সালে কি নিজে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নির্বাচন করা যাবে?
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন time-slot ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সিস্টেম আবেদনকারীর জন্য সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দ করে; আবেদনকারীকে manually সময় নির্বাচন করতে হয় না।
পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন থাকতে হবে?
প্রকাশিত ভারতীয় হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার তারিখে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুইটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে কি?
ভারতীয় হাইকমিশনের প্রকাশিত ট্যুরিস্ট ভিসা ডকুমেন্ট তালিকায় পুরোনো পাসপোর্ট আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।



ঘরজামাই এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url