বাচ্চার চোখে কাজল: উপকারিতা নাকি কুসংস্কার?
বাচ্চার চোখে কাজল: উপকারিতা নাকি কুসংস্কার?
শিশুর জন্মের পর থেকেই আমাদের সমাজে বাচ্চার চোখে কাজল দেওয়ার একটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, কাজল দিলে শিশুর চোখ বড় ও সুন্দর দেখায়, চোখ ভালো থাকে এবং অশুভ নজর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এই ধারণাগুলোর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ খুঁজে পায়নি।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুর চোখে কাজল দেওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি শিশুর চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বাজারে পাওয়া অনেক কাজলে সীসা (Lead) বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে, যা শিশুর শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া অপরিষ্কার হাতে বা দূষিত কাজল ব্যবহারের ফলে চোখে জীবাণু সংক্রমণ, অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া কিংবা চোখে আঘাত লাগার আশঙ্কাও থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নবজাতক বা ছোট শিশুর চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই অপ্রয়োজনীয় কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করাই নিরাপদ। শিশুর চোখ পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়াই যথেষ্ট। যদি চোখ লাল হয়ে যায়, অতিরিক্ত পানি পড়ে বা পুঁজ বের হয়, তাহলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞ বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশুর চোখে কাজল দেওয়া একটি সাংস্কৃতিক বা পারিবারিক ঐতিহ্য হতে পারে, কিন্তু এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতার পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করে কাজল ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই অধিক যুক্তিসংগত ও নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url